বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা
বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম উৎসব। এই পুণ্যোৎসব বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। বৈশাখী পূর্ণিমা দিনটি বুদ্ধের ত্রিস্মৃতি বিজড়িত। এই পবিত্র তিথিতে বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বোধি বা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। এই দিনে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীগণ স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন। ভক্তগণ প্রতিটি মন্দিরে বহু প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেন, ফুলের মালা দিয়ে মন্দিরগৃহ সুশোভিত করে বুদ্ধের আরাধনায় নিমগ্ন হন। এছাড়া বুদ্ধগণ এই দিনে বুদ্ধ পূজার পাশাপাশি পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেত প্রার্থনা করে থাকেন।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। দেশে উদ্ভূত
করোনা পরিস্থিতির কারণে এদিন সবাইকে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করেই উৎসব পালনের আহ্বান
জানিয়েছে বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন।
সংগঠনের সাধারণ
সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুদ্ধ পূর্ণিমা মহামানব ভগবান বুদ্ধের জন্ম,
বুদ্ধত্ব লাভ ও
মহাপরিনির্বাণ দিবস। এই তিন স্মৃতি বিজড়িত দিবসটিকে জাতিসংঘ ‘ইউনাইটেড নেশন ডে অব বৈশাখ ’ নামে
আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবেও ঘোষণা করেছে। বৌদ্ধ বিশ্ব এ দিবসটি অত্যন্ত
জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করে। আমরাও প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে যথাযথ ধর্মীয়
মর্যাদায় প্রতি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন করে থাকি। সরকার এ দিবসে জাতীয় ছুটি
ঘোষণা করে। ‘কিন্তু আপনারা সবাই জানেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলছে। তাতে বাংলাদেশও আক্রান্ত। এর
ফলে দেশে বর্তমানে লকডাউন চলছে। সরকার ঘোষিত লকডাউনের আওতায় সামাজিক দূরত্ব
নিশ্চিত করতে এ বছর রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় আন্তজার্তিক বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ
পূর্ণিমার কোনো রকম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করা হবে না। শুধুমাত্র বৌদ্ধ বিহারে
অবস্থানরত ভিক্ষুসংঘরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান,
পূজা, বন্দনাসহ ধর্মীয়কার্য সমাধা করবেন। ভক্ত,
উপাসক-উপাসিকারা নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করেই ধর্মীয় কার্য প্রতিপালন করবেন।’


No comments