মানুষ -- ভিন্ন চোখে মানুষের গল্প || শাহরিয়ার সোহাগ || পর্ব - ৪
একে
একে জাহাজগুলো জেটি ঘাটে এসে নোঙর করছে। বড় বড় ব্যাগ, চোখে রোদ চশমা, মাথায়
টুপি নিয়ে মানুষ জেটিঘাটের ব্রীজ ধরে হাঁটতে হাঁটতে লোকালয়ের দিকে যাচ্ছে। কিছু
মানুষের পোশাক গেটআপে মনে হচ্ছে ওরা এখানে সার্কাস খেলা দেখিতে এসেছে। অল্প বয়সী
কুলিরা ব্যাগ টানতে চায়। কেউ কুলিদের দিয়ে ব্যাগ টানায়। কেউ বা নিজেরাই টানে। তবে
বলদা কিসিমের কিছু মানুষকে টার্গেট করে তাদেরকে ভোগোল বুঝিয়ে, বেশি টাকা দাবি করে
এসব কুলিরা। কেউ তো আবার ব্যাগ পৌঁছে দিয়ে পারিশ্রমিক নেবার সময় চোখমুখ ছোট করে
চেহারায় এমন একটা ভং ধরে যেন অনেক কষ্ট হয়ে গেছে, ব্যাগ অনেক ভারী ইত্যাদি
ইত্যাদি। তাতে কেউ মানবতা দেখিয়ে পারিশ্রমিক একটু বাড়িয়ে দেয়। টাকা হাতে পেয়েই
কুলিরা পুরোপুরি সুস্থ হয় যায়। টাকা দেওয়া মানুষটা পেছন থেকে কুলির সুস্থ হয়ে চলে
যাওয়াটা ফ্যাল ফ্যাল চোখে দেখে আর মনে মনে নিজেরে গালি দেয়। এখনকার ভ্যান
ড্রাইভার, অটোড্রাইভার তো কোনো জায়গার নাম বললে এমন একটা টান দিয়ে বলে যেন জায়গাটা
কত না জানি দূরে। আর জায়গা যত দূরে, ভাড়াও তত বেশি। দেনদরবার ঠিক করার পর দেখা যায়
দশ মিনিটেই হোটেলে নিয়ে হাজির করে। এসবই হলো এই দ্বীপে ঘুরতে আসা মানুষদের পকেট
কাটার কৌশল। জাহাজ থেকে নেমেই কিছু অতি উৎসাহী মানুষের শুরু হয় ছবি তোলার পর্ব।
খায় আর না খায়, ছবি তুললেই যেন ওদের পেট ভরবে। ছবি তুলতে যেন ক্লান্তি নেই এসব
মানুষের, ভাসমান জাহাজে উড়ন্ত গাংচিলকে খাবার খাওয়াতে যেমন কোন ক্লান্তি থাকে না
তাদের। মাত্রই জাহাজ থেকে নেমে দ্বীপে ঘুরতে আসা মানুষের কারো কারো হাতে খাবারের
প্যাকেট। দ্বীপে যে সব জিনিসের দাম বেশি তা তারা আগেই খোঁজ নিয়ে এসেছে মনে হয়।
যাদের হাতে খাবারের প্যাকেট আছে বেছে বেছে তাদেরকে টার্গেট করে একেকজনের পিছু নেয়
ওরা পাঁচ বন্ধু। দয়া করে যদি কেউ ওদের কিছু খেতে দেয় এই আশায়। তবে খাবার কেউ
দেয় না। মন্দের ভালো হলো কেউ কেউ খাবারের ফেলে দেয়া অংশ দেয়। আর মন্দ হলো ঘুরতে
আসা মানুষদের কেউ কেউ শুধুমাত্র নিজের শখ আহ্লাদের জন্য ওদের লাথি মারে তো কেউ ইট
ছুড়ে মারে। আর ওরা একটু চিল্লালেই সব দোষ ওদের। ঘুরতে আসা মানুষগুলো যেন দুধে
ধোয়া তুলসী পাতা। মাঝে মাঝে এসব তুলসীপাতা চাবায়ে খেতে মন চায় ওদের। আপাতত ক্ষুধার
রাজ্যে বাস করে এতকিছু দেখার সময় নেই ওদের। খাবার হাতে ওরা নতুন মানুষের সন্ধান
করে। সারাদিনে ওদের একটা বিরাট সময় চলে যায় এই খাবারের সন্ধানে। কখনো পায় কখনো
পায় না। যা পায়, পাঁচ বন্ধু ভাগ করে খায়।
জন্ম
থেকেই ওরা পাঁচ বন্ধু একসাথে বড় হয়েছে। ওরা সবাই ওদের বেড়ে ওঠা দেখেছে। এই
দ্বীপে ওদের মত আরো কয়েক হাজার থাকলেও ওদের পাঁচ জনের ভেতরে মিল মহাব্বত বেশি।
বিপদে আপদে সুখে দুখে ওরা কখনো কেউ কাউকে ছেড়ে যায় নি। ওদের এই বন্ধুত্বের কথা এই
দ্বীপে ওদের জাতির সবাই জানে।
ইশির
পুরো দেহ বাদামি হলেও কাঁধ আর লেজ সাদা বর্ণের। দুই চোখের মাঝ দিয়ে নাক বরাবর
একটা সাদা রেখা। ছোট কান আর দ্বীপের অন্যদের তুলনায় শান্ত মেজাজের ইশি এই দ্বীপের
অনেকের ক্রাশ। অনেকেই তাকে পছন্দ করে। সুযোগ পেলে তার পিছু নেয়। ইশি ওদের কাউকেই
পাত্তা দেয় না। ইশি থাকে গলাচিপার ওদিকে। ওদের তো আর বাড়িঘর নেই। কখনো কখনো
বন্ধুদের সাথেই ঘুমোয়, একসাথে ওঠে, সমুদ্রের ভেতর দিয়ে সূর্য ওঠা দেখে। সূর্য ওঠা
আর সূর্য ডোবা ইশির খুব পছন্দের কাজ।
গুলু
দেখতে কালো বর্ণের। মুখ আর সামনের দু পা গাঢ় বাদামি রঙের। পেছনের ডান পাশের পা
ভাঙা। অন্যদের মত স্বাভাবিক ভাবে হাটতে পারে না। ওর ছোটবেলায় এই দ্বীপে ঘুরতে আসা
কয়েকজন তাদের ইয়ারকির ছলে ওর দিকে সজোরে ইট ছুঁড়ে মারে। ইটের আঘাতে তখন থেকেই
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটা শুরু। এখন যদিও অনেকটা মানিয়ে নিয়েছে। তবে কষ্ট তো হয় ই।
অন্যদের স্বাভাবিক চলতে দেখলে নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়। তখন থেকেই ঘুরতে আসা
মানুষগুলো ওর চোখের বিষ। যদিও পেট বাঁচাতে এই মানুষগুলোর দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে
হয়। তাই ঘৃণা করেও খুব একটা লাভ নেই। গুলু অন্যদের তুলনায় একটু দুষ্টু। বন্ধুদের
আড্ডা জমিয়ে রাখতে সে একাই একশ।
ইকি
দেখতে গাঢ় বাদামি রংয়ের। লেজ কিছুটা হালকা বর্ণের, নাক মুখের অংশ কালো। ওর ভাই
টুকি দেখতে ওর মতই। শুধু পিঠে বেশ কিছু কালো সাদা দাগ আছে। আর ইকির ভালোবাসার তাহি
হালকা বাদামি আর সাদা রঙের মিশ্রণে অপরূপ সুন্দরী। তাহির চোখদুটো ই যেন ইকির
প্রেমে পড়ার কারণ। গলার নিচের সাদা বর্ণ তাহিকে নাকি সবার থেকে আলাদা করেছে। এই
দ্বীপের আর কারো গলাতে নাকি এমন সাদাটে বর্ণ নেই। এটা ইকি বলেছে। ইকি যে তাহিকে
পছন্দ করে এটা শুধু ওর সার্কেল না। পুরো দ্বীপ জানে। ওদের সরাসরি প্রেম না হলেও
ইকির কেয়ারগুলো তাহি বেশ পছন্দ করে, উপভোগ করে। তবে মুখ ফুটে লাবিউ টু বলেনি এখনো।
তাহি হাসি দিলেই ইকি ভাবে যে এই বুঝি তাকে লাবিউ টু বলবে। তবে বলবে বলবে করে আর
বলে না। ইকি আবারো মনটা শক্ত করে অপেক্ষা করতে থাকে তাহির উত্তরের জন্য।
কোনো
দিকে খাবারের সন্ধান করতে না পেরে বিকালে তারা হাজির হলো জাকিরের চায়ের দোকানে।
জাকির আবার বকা দেবে না তো? মারবে না তো? দুপুরে তার রেডি করা খাবার না খেয়ে অন্য
খাবারের ধান্দায় গেছিল। তবে খাবার জোগাড়ের ধান্দাযুদ্ধে পরাজিত হয়ে পাঁচ বন্ধু
ক্লান্ত। বকা, মাইর খাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে ওদের এখন একটা বুদ্ধি কাজে লাগাতে হবে।
তা হল জিহ্বা বের করে জাকিরের দোকানের সামনে বসে থাকতে হবে। জাকির না দেখার আগ
পর্যন্ত এভাবে ভং ধরে থাকতে হবে। জাকির দেখে যেন ভাবে যে ওরা ক্লান্ত,
ক্ষুধার্ত। তাহলে কিছু বলবে না। এটা ছাড়া আপাতত আর কিছু করার নেই ওদের। যেই ভাবা
সেই কাজ। ভালোভাবে জাকিরের দোকান পর্যন্ত এসে সবাই জিহ্ব বের করে ভং ধরলো। এরপর অপেক্ষায় আছে কখন জাকির ওদের দিকে একটু
তাকাবে। যতক্ষণ জাকির না তাকাবে ততক্ষণই ওদের অপেক্ষা করতে হবে। এখন রাগ করে চলে
যাওয়া যাবে না। এখন রাগ করে চলে গেলে সারারাত না খেয়ে থাকতে হবে। রাতের বেলা
খাবার জোগাড় করা যায় না। নিজেদের পেটের দরকারেই এখন অসহায়ের মতো থাকতে হবে
ওদের। কোন রকম উল্টাপাল্টা কিছু করলে ওদেরই বিপদ। একজনের জন্য কেউ ই খাবার পাবে
না।
আরেহ,
জমিদারগুলান আইছে দেখছি। - দোকানের পাশে হঠাৎ ওদের দেখেই জাকিরের মন্তব্য। জাকির
সিনেমায় ডুবে ছিল। তাই দেখতে সময় লেগেছে।
জাকিরের
মুখে ওদের এমন নাম শুনে ওদের খুব হাসি পাচ্ছে। তবে হাসতে পারছে না। জিহ্ব বের করে
হাসা সম্ভব না। এখন হাসার চেয়ে জিহ্ব বের করে থাকাটা বেশি দরকার। এখন হাসলে
জাকিরের ভেতরের দয়ালু ভাবটা ফুরুৎ করে উড়াল দিতে পারে।
জাকিরের
মুখে অনেকদিন পর জমিদার ডাক শুনলাম। - ফিস ফিস করে পাশে থাকা ইকি কে বললো গুলু।
চুপ
থাক। কথা বলিস না। এ্যাকক্টিংয়ের উপ্রে থাক। - গুলুকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলো ইকি।
কিরে,
জাকির তো ঠিকমত তাকাইতেছেও না আমাদের দিকে। একবার দেখে জমিদার বলে গালি দিয়ে আর
তাকাচ্ছে না। - যেন বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে টুকি।
আরে
সবুর কর। জাকির বলে না সবুরে মেওয়া ফলে। সবুর কর। - সান্তনা দিলো ইশি।
আচ্ছা,
মেওয়া কি? খাইছিস কখনো? - প্রশ্ন করলো গুলু।
আরে
অফ যা। এ্যাক্টিং এর উপ্রে থাক। তা না হলে খাবার পাবি না। আর এই দ্বীপে মেওয়া ফল
নেই। কেয়া ফল আছে। আনারসের মত দেখতে। - উত্তর দিলো ইশি।
আমিও
দেখেছি কেয়া ফল। সেদিন ঘুরতে আসা কয়েকটা মানুষের হাতে দেখেছিলাম। - যোগ করলো ইকি।
মানুষ
আইন তৈরী করে ঘোষণা দিয়েছে এই দ্বীপে কেয়া ফল ছেড়া অপরাধ। আর মানুষ ই কেয়া ফল
ছিঁড়ে এই দ্বীপের অস্তিত্ব দিন দিন ধংস করে দিচ্ছে। - উত্তর দিলো তাহি।
আরে
তোরা থাম তো। এসব নিয়ে পরে গল্প, প্রতিবাদ করবোনে। আগে পেটে তো খাবার পড়ুক। এত ফিস
ফিস করলে জাকির বুঝে ফেলবে। তোদের পায়ে পড়ি তোরা এ্যাকটিং এর উপ্রে থাক। - সবাইকে
থাকতে বললো ইশি।
জাকিরের টিভিতে তখন বাংলা সিনেমা চলছে। নায়িকা আর তার বাবা মা সহ বাড়ির লোকজনদেরকে ভিলেন আর তার চ্যালাব্যালা বেঁধে রেখেছে তিনটা পাহাড়ের মাঝখানে। কারো হাতে বন্দুক, কারো হাতে লাঠি। নায়িকা আর ওর বাবা মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ভিলেন। তবে দুটো শর্ত মানলে ওদেরকে মারবে না । নায়িকাকে, মানে ওদের মেয়েকে ভিলেনের সাথে বিয়ে দিতে হবে। আর তাদের সমস্ত সম্পতি ভিলেনকে লিখে দিতে হবে। ভিলেনের বাপ বুড়ো ভিলেন আগেই কাগজপত্র রেডি করেই রেখেছে। এই ভিলেন হল বড়লোক নায়িকার বাড়ির কাজের লোকের ছেলে। নায়ক তখনো আসেনি। ভিলেন নায়িকার দিকে বন্দুকের নল ধরে রেখেছে। নায়িকার বাপে সম্পত্তি লিখে দিতে সই করতেও রাজি হয়েছে। নায়িকা না বাবা না, তুমি সই করবা না বলে চিল্লাই চিল্লাই কাঁদতেছে। তবে নায়ক এখনো আসেনি। জাকির জিহ্ব বের করা বাহিনীর দিকে মনোযোগ না দিয়ে সিনেমায় ডুবে আছে। জাকির নিজেও জানে নায়িকা মারা যাবে না। কিছুক্ষণের ভেতর নায়ক উড়ে এসে মারামারি করে সবাইকে বাঁচাবে। তবে কখন যে আসবে এটা নিয়েই জাকির চিন্তায় আছে। অথচ এই সিনেমাটা জাকির এর আগেও কয়েকবার দেখেছে। সবই তার মুখস্ত। জাকিরের মনোযোগের আশা করতে করতে ওরা পাঁচ বন্ধুও সিনেমার ভেতরে ঢুকে গেছে। গুলুর মনে হয় বেশি ক্ষুধা লাগছে। দোকানের কোনায় ডাবের ছোবলা ফেলার ডাস্টবিনের কাছে গিয়ে মুখ দিয়ে ডাবের ছোবলা নেড়ে চেড়ে দেখছে কোনোটা চেপেপুটে কিছু খাওয়া যায় কি না। সফলও হল। সারাদিনে পেটে একটু ডাব না পড়লে নাকি পুষ্টিতে ঘাটতি থেকে যায়। গুলুর দেখাদেখি টুকি এসেও একটু খেয়ে নিলো। তাহি, ইশি সিনেমা দেখছে। তাহিকে রেখে ইকি একা যেতেও পারছে না। সে তো আবার প্রেমিক। এর মধ্যে নায়ক কোথা থেকে যেন উড়ে এসে ভিলেনের এক একটা চ্যালারে ক্যালাচ্ছে। নায়িকা হাসতেছে। নায়িকার ভাবটা এমন যে একটু হাতে তালি দিতে পারলে ভালো লাগতো। তবে হাত বাঁধা বলে দিতে পারছে না। তবে নায়িকার ইচ্ছেটা জাকির পূরণ করে দিচ্ছে। জাকির খুশিতে হাতে তালি দিচ্ছে। মানুষ যে দুনিয়ার সবচে অদ্ভুত প্রাণী, এটা তার আরেকটা প্রমাণ। নায়ক একা মারা গেলে সবাই কষ্ট পেত। আর নায়ক যে একা এতগুলো মানুষকে মেরে ফেললো এতে সবাই হাতে তালি দিচ্ছে, মজা নিচ্ছে, নায়ককে বাহবা দিচ্ছে। এতগুলো খুন করার পরও নায়ক সবার কাছে প্রিয় থাকে। আর সম্পত্তিলোভী ভিলেন নায়িকাকে তুলে নিয়ে গেলেই সে সবার চোখে খারাপ হয়ে যায়। দুনিয়াতে মানুষ ই মানুষকে বেশি খুন করে। অথচ হিংস্র প্রাণী বলা হয় বাঘ সিংহকে।
সিনেমা
শেষ। নিজের ঘোলা চশমাটা খুলে পকেটে রাখতে রাখতে জাকির তার আগের রূপে ফিরে আসলো।
ততক্ষণে গুলু আর টুকি ডাবের ছোবলা খেয়ে নাকেমুখে লাগিয়ে টিভির সামনে অন্য বন্ধুদের
সাথে ভদ্র হয়ে বসে পড়েছে। সিনেমা শেষ বুঝতে পেরে পাঁচবন্ধু আবার জিহ্ব বের করেছে।
সিনেমা দেখতে দেখতে মনের অজান্তেই জিহ্ব মুখের ভেতর ঢুকে গেছিল। বিকাল গড়িয়ে
সন্ধ্যা হবে হবে ভাব।
সারাদিনে
কয় গামলা পোলাও কোরমা খাইছোস? তোদের কোন বাপে খাইতে দিছে? - জাকির মনে হচ্ছে রেগে
আছে। জাকিরের কথা শুনে দোকানের কাস্টমানেরা অবাক। জাকির কাকে বলছে এসব। ওদের
উত্তরের আশায় না থেকে জাকির দুপুরের সেই বিস্কুটের প্যাকেটটা বের করে ওদেরকে দিলো।
জাকির মানুষটা চিল্লাচিল্লি করলেও ব্যাটার মন ভালো আছে।
.png)


No comments