Header Ads

নেলসন ম্যান্ডেলা; কেরানি থেকে বিশ্ব নেতা

নেলসন ম্যান্ডেলা, কেরানি থেকে বিশ্ব নেতা, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News, bangla news, bangladeshi news, today update ne

১৮ জুলাই ১৯১৮ দক্ষিণ আফ্রিকার ছোটগ্রাম মোভেজো। জন্ম জন্ম নিলেন রলিহলাহ ম্যান্ডেলা। একজন সামান্য কেরানী হওয়ার স্বপ্ন থেকে হয়ে ওঠেন বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী নেতা। ম্যান্ডেলার বাবা ছিলেন থেম্বু রাজবংশের সদস্য। মা ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী। মাত্র নয় বছর বয়সে বাবাকে হারান। ছোটবেলা থেকেই প্রতি রবিবার নিয়মিত গির্জায় যেতেন। তিনি তার পরিবারের প্রথম সদস্য যিনি স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩৩ সালে উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিন বছরের সিলেবাস মাত্র দুই বছরেই শেষ জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষা পাশ করে ফেলেন। এরপর ভর্তি হন হিলটাউন স্কুলে। শিক্ষকেরা পশ্চিম সংস্কৃতির প্রতি গুরুত্ব দিলেও ম্যান্ডেলার আগ্রহ ছিল আফ্রিকান সংস্কৃতির প্রতি। পরবর্তীতে ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়ে তিনি ইংরেজি রাষ্ট্রবিজ্ঞান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। জোহানেসবার্গের শহরতলীতে থাকার সময় নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেন ম্যান্ডেলা। আইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কেরানী হিসেবেও কাজ করেন। এক পর্যায়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী ওয়াল্টার সিসুলোর সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। ১৯৪৪ সালে এএনসিতে যোগ দেন ম্যান্ডেলা। নিরলসভাবে কাজ করেন দলটির যুবশাখা প্রতিষ্ঠায়। সিসুলু, অলিভার, টাম্বোর মত তরুণ, বুদ্ধিদীপ্ত নিবেদিত প্রাণ একনিষ্ঠ কর্মীদের একত্র করে এএনসিকে পুরোপুরি আন্দোলনমুখী দলে পরিণত করেন তিনি। ১৯৫৫ সালে এএনসির স্বাধীনতার সনদ প্রণয়নের মূল ভূমিকা  ছিল ম্যান্ডেলার। পরের বছর ম্যান্ডেলা সহ ১৫৬ জন রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়ার পর ম্যান্ডেলা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বক্তৃতায় বলেন সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা শুরু না করলে দেশজুড়ে ধর্মঘট করা হবে কিন্তু শ্বেতাঙ্গ সরকার তার অবস্থানে থাকে অনর ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিতে আত্মগোপনে চলে যান ম্যান্ডেলা এ সময় এএনসির নবগঠিত সামরিক শাখার প্রধান নির্বাচিত হন তিনি ১৯৬২ সালে আবার গ্রেফতার হন ম্যান্ডেলা পাঁচ বছর কারাদন্ড হয় তার দুই বছর পর অন্তর্ঘাত্মূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে রিফোনিয়া ট্রায়ালে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয় তাকে। পরে পাঠানো হয় কুখ্যাত রোবেন দ্বীপের কারাগারে। মোন্ডেলা সহ রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে। ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি মেন্ডেলা কারামুক্ত হন। তিনি জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ দেন। শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানান। পরবর্তীতে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো সব বর্ণের মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। ম্যান্ডেলা দেশের প্রথম কৃশাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হন। ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকায় মাদিবা নামে পরিচিত। যার অর্থ জাতির জনক। তিনি বিশ্ব শান্তি, সামাজিক ন্যায় এবং গণতন্ত্রের প্রতীক। নোবেল শান্তি পুরষ্কার , ভারতরত্ন সহ ২৫০ এর বেশি সন্মাননা পেয়েছেন তিনি। নেলসন ম্যান্ডেলা তিনটি বিয়ে করেছিলেন। ছয় সন্তানের জনক তিনি। পরিবারে যুক্ত হয়েছে সব মিলিয়ে ১৭ জন নাতিনাতনী। ২০১৩ সালের আজকের এই দিনে মারা যান তিনি জাতিকে বিভাজন থেকে একতায় নিয়ে আসার এই মহান নেতার প্রতি রইল শ্রদ্ধা । তার অসামান্য অবদানের জন্য বিশ্ব তাকে মনে রাখবে।

No comments

Powered by Blogger.