Header Ads

রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু

রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু।

 রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু

(লেখাটি লিখেছেন ভুক্তভোগী রোগীর বান্ধবি)
আসলে কি বলবো আমার বলার কোন ভাষা নেই... হাসিখুশি একটা মেয়েকে এভাবে পড়ে থাকতে দেখব জীবনে কল্পনা করি নাই। যখনই ওকে এভাবে দেখি কলিজাটা ছিড়ে যায়, মেনে নিতে পারি না যে এটা আমাদের আখিঁ!
সবাই বারবার জানতে চাচ্ছেন তার এখন কন্ডিশন কি সবাইকে আলাদা আলাদা করে তো ডিটেলস বলতে পারছিনা তাই এ পোস্টটি করা। আপনারাই দেখে নিন তার কি অবস্থা, আজকে চারটা দিন মেয়েটা এভাবে পড়ে আছে। গত শুক্রবার রাতে সেন্সলেস হয়েছে এখনও পর্যন্ত সে অবস্থায় আছে। কোন ইমপ্রুভমেন্ট নেই, ডাক্তার বলেছে তার কোন ইমপ্রুভমেন্ট হওয়ার চান্স নেই। বর্তমানে তার শরীরের কিডনি, লিভার, হার্ট এবং অন্য কোন অংশ কাজ করছে না। ব্রেন স্টোক ও করেছে, তার সাথে রক্তক্ষরণও বন্ধ হচ্ছে না। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ার কারণে শরীরের অন্য অংশগুলো কাজ করতে ব্যর্থ, গত চার দিন ধরে প্রচুর পরিমাণে রক্ত দিতে হচ্ছে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তার নিঃশ্বাস চলবে ততক্ষণ পর্যন্ত রক্ত দিতে হবে। রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার কোন উপায় নেই, তাই ডক্টর বলেছে এভাবে কতক্ষণ তাকে তারা বাঁচিয়ে রাখতে পারবে কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। গতকালকে এবং আজকেও ল্যাবএইডের ডক্টররা মেডিকেল টিম বসিয়েছেন তাকে কোন ভাবে বাঁচানো যায় কিনা, কিন্তু তারা ব্যর্থ কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছে না।
যতই আমরা মিডিয়াতে খবর ছড়াই না কেন, পত্রিকাতে খবর ছড়াই না কেন ফেসবুকে পোস্ট করি না কেন আমাদের হাতে কিছু নেই। অনেকেই হয়তো দেখেছেন সময় টিভি গতকালকে একটি ছোট নিউজ ভিডিও করেছে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট চ্যানেল থেকেও তারা লাইভে গিয়েছেন। কিন্তু সেন্ট্রাল হসপিটালের তারা সিসিটিভি ফুটেজ এবং যারা ঐদিন রাতে ডেলিভারির সময় উপস্থিত ছিল তাদেরকে হাইড করে রেখেছেন। ভাবতে অবাক লাগে যে কিছু টাকার জন্য ওরা ডাক্তার ছাড়াই মিথ্যা কথা বলে ডেলিভারি করতে গিয়ে আজ আমার বান্ধবীর এ অবস্থা, তারা যদি ওই দিন রাতে সত্য কথা বলতো যে ডঃ সংযুক্তা সাহা নেই তাহলে আজকে এই দিন দেখতে হতো না। তারা আমার বান্ধবীর বাচ্চাটাকে তো মেরে ফেলছে সাথে আমার বান্ধবীটাকেও জিন্দা লাশ বানিয়ে দিয়েছে।
এখন একমাত্র আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে তুলতে পারেন। আমাদের তার জন্য দোয়া করা ছাড়া আর কোন কিছু করার নেই। আমি শুধু একটা কথাই বলব প্লিজ আপনারা আমার বান্ধবীর জন্য দোয়া করবেন আর কিচ্ছু চাইনা। যাদের ভুল চিকিৎসার জন্য আজকে সে এভাবে জিন্দা লাশের মত পড়ে আছে তাদের আল্লাহ বিচার করুক। আমার আর কিছু বলার নাই! 🙏🙏
চিকিৎসকের অবহেলায় , আমার ফ্রেন্ড মৃত্যু পথযাত্রী। ডেলিভারি কেইস নিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতাল গ্রীণরোডে গেলে কোন চেকআপ ছাড়াই তাকে কাটাছেঁড়া করে।
নাম: মাহবুবুর রহমান আখিঁ, গত শুক্রবার রাত ১২:৫০ মিনিটে ডঃ সংযুক্তা সাহার আন্ডারে সেন্ট্রাল হসপিটালে ভর্তি হয়। কিন্তু সেই টাইমে সংযুক্ত সাহা উপস্থিত ছিলেন না, গত তিন মাস থেকে ডঃ সংযুক্তা সাহার আন্ডারে মাহবুবুর রহমান আঁখি চেকআপে ছিলেন। তার শরীরের কন্ডিশন নরমাল ডেলিভারির জন্য ঠিক ছিল। আখিঁ যথেষ্ট পরিমাণ স্ট্রং একটা মেয়ে, এবং সে নিজেও নরমাল ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত ছিল। রাত ১২ঃ৫০ টাযর পর থেকে হসপিটালের কর্তৃপক্ষরা নরমাল ডেলিভারির জন্য চেষ্টা চালানো শুরু করে। কিন্তু যার উপর নির্ভর করে আমার বান্ধবী এডমিট হতে রাজি হয় তিনি ছিলেন না। কিন্তু হসপিটাল কর্তৃপক্ষরা মিথ্যে বলেছে যে তিনি আছেন এবং তিনি তার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা কোনো রকম চেক-আপ ছাড়াই ডেলিভারির কাজ শুরু করে দেন।ডেলিভারির সময় রাতে উপস্থিত ছিলেন ডঃ মিলি, আমার বান্ধবীকে প্রেসার দিতে বলেন। এক পর্যায় অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পর তারা সাইট কাটেন। এবং সাইড কাটতে গিয়ে মূত্রনালী ও মলদ্বার কেটে ফেলেন, সাথে সাথেই প্রচন্ড রক্তক্ষরণ শুরু হতে থাকে এবং আমার বান্ধবী সেন্স হারিয়ে ফেলেন।সেন্সলেস অবস্থায় তারা আমার বান্ধবীকে আবার সিজার করে বেবিকে বের করেন কাটা জায়গা সেলাই করে দেন । সেন্সলেস হওয়ার কারণে বাচ্চার হার্টবিট কমে যায় তাই ডেলিভারির সাথে সাথেই বেবিকে আই সি ইউ নিতে হয়। এদিকে আমার বান্ধবীর শরীর যখন অনেক বেশি খারাপ হতে লাগে তখন তারা হসপিটালে উপস্থিত থাকা আখিঁর হাসবেন্ড সুমনকে জানান আপনার বাচ্চার অবস্থা খুবই খারাপ আমরা আপনার বাচ্চাকে আইসিউতে ভর্তি করিয়ে দিয়েছি।আখিঁর হাজবেন্ড যখন বারবার তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে থাকে যে ডক্টর কোথায় ডক্টর কোথায় তখন তারা বলে ডক্টর দেশের বাহিরে আছে। তাহলে অপারেশন করলো কে? তখন আঁখির হাসবেন্ড ৯৯৯ কল করেন এবং পুলিশ এসে ডায়েরি করেন। তারপর সেন্ট্রাল হসপিটালের কর্তৃপক্ষরা জানায় তাদের এখানে সি সি ইউ ও নেই,এন আই সি ইউ নেই তাই অন্য হসপিটালে শিফট করতে হবে। গতকাল তিনটায় সেন্ট্রাল হসপিটাল থেকে ল্যাবএইড তাকে ট্রান্সফার করে সি সি ইউ তে লাইফ সাপোর্টে ভর্তি করানো হয়। ল্যাবএইডে শিফট করানোর পর সেন্ট্রাল হসপিটালের তারা জানায় যে বেবি মারা গেছে।
গতকাল শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত আমার বান্ধবী এখনো ল্যাবএইডের সিসিইউতে লাইফ সাপোর্টে আছে, এবং ডক্টর বলেছে তার বাঁচার সম্ভাবনা নেই। আজকে আমি নিজে গিয়ে দেখে আসছি আমার বান্ধবীকে,কি বলবো আমার আসলে বলার কোন ভাষা নাই। সুস্থ একটা মানুষ নিজে হেঁটে সেন্ট্রাল হসপিটালে পছন্দের ডক্টরের আন্ডারে ডেলিভারি করানোর জন্য আসছিলো। আর এখন তার পুরো শরীল কাজ করছে না।
একটা ভুল চিকিৎসার জন্য দুইটা লাশ পড়ে আছে। আজকের দুপুরের পরে সময় টিভি থেকে সাংবাদিকরা আসছেন রিপোর্ট লেখার জন্য, রিপোর্ট লিখে তারা যখন সেন্ট্রাল হসপিটালে যায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজের জন্য সেন্ট্রাল হসপিটালে তারা জানায় তারা নাকি এসব পুলিশের সাথে বুঝবেন। এই মুহূর্তে তার শরীরের কন্ডিশন খুবই খারাপ, বাচ্চাটার লাশ মর্গে আছে। আর কতক্ষণ এভাবে তাকে হসপিটালে থাকতে হবে সেটার কোন ঠিক নেই। ডক্টর বলছে আপনার যতক্ষণ এভাবে রাখেন আপনাদের উপর সে কোনভাবে রিকভার হবে না। সবাই প্লিজ আমার বান্ধবীর জন্য দোয়া করবেন।
আমি জাস্ট একটা কথাই বলবো boycott_centralhospital_dhanmondi
We just need justice
আমার আর কিছু বলার নাই!

No comments

Powered by Blogger.