ঢাকা থেকে বরিশাল || শাহরিয়ার সোহাগ || Dhaka Theke Borishal poem by Shahriar Sohag
কেউ হয়তো তখন ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছিল তার প্রিয়জনকে নিয়ে।
কারো পাশে হয়ত ছিল তার প্রিয়তম অথবা প্রিয়তমা।
পরিবারকে কাছে পাবার তাড়নায় কেউ হয়ত জেগেই ছিল।
ঢাকা থেকে বরিশাল। সোনার তরী পরিবহন।
কে জনতো রবি ঠাকুরের সোনার তরীর সাথে মিল রেখে,
তারাও ভেসে যাবে কালের গর্ভে?
গ্রামের যে চোখগুলো প্রিয় মানুষকে দেখতে আগ্রহ নিয়ে ছিল।
সেই চোখগুলোই রাত থেকেই উদ্যত হয়ে উঠেছে,
সেই একই মানুষের নিথর দেহের আশায়।
২৫ জন। আরো কিছু মানুষ প্রহর গুনছে...
একসাথে এত মানুষের, এতগুলো পরিবারের স্বপ্ন আর ভালবাসার সমাপ্তি।
তাদের ফোন নাম্বর বন্ধ, ফেসবুকের প্রোফাইলও নিস্তেজ আজকর পর থেকে।
তাদের ব্যক্তিগত অসমাপ্ত কাজগুলো অসমাপ্তই থেকে যাবে।
এত এত দুর্ঘটনার ভিড়ে এই দুর্ঘটনার কথা,
এই দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন চাপা পড়ে যাবে।
তবে তাদের পরিবার ঠিকই তাদের জিইয়ে রাখবে তাদের আন্তস্থলে।
তবে আর কত? শেষ, আদৌ কি হবে?
নাকি চোখের জল বয়তেই থাকবে নিরবধি??
৯ এপ্রিল রাত দেড়টার দিক ফরিদপুরেরর ভাঙায় ঢাকা থেকে বরিশালগামী সোনার তরী
পরিবহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এত তাৎক্ষণাত মারা যায় ২৫ জন।
রঙিন মেয়ে এবং একটা জীবন || শাহরিয়ার
সোহাগ
ও বুকে হাত দিয়েছে বহু জন।
তবে ভালোবাসা দিয়ে ছুঁয়ে দেখেনি কেউ।
ও দেহ জড়িয়েছে বহু বিবস্ত্র দেহ,
তবে কোনো দেহ তাকে মায়াতে বাঁধেনি।
কি অদ্ভুত, তাই না?
যৌনতার মত চরম সুখও টাকায় বিক্রি হয়,
যৌনতা অনুভব না করলেও।
বুক পকেটে তার জন্য ভাংতি টাকা,
হাতের তালুতে তার দেহে হাত বোলানোর নেশা নিয়ে,
মুখে বলি- ছ্যা ছ্যা ছ্যা। বেশ্যা বেশ্যা।
অথচ এই সুশীলই পাবলিক বাসে সুযোগ পেলেই-
চেপে ধরে নারীর বুক কিংবা দেহের অন্য অংশ।
অশ্লীল পোশাকে কাউকে দেখলে গালিও দেয়,
আড়চোখে কয়েকবার ওদেহে চোখও বুলিয়ে নেয়।
বাঁচতে হবে, সেটা যে কোনো মূল্যেই।
তাই তো জীবনের রঙে সাদা কালো মেয়েটা-
রকোমারি রঙে নিজেকে রঙিন করে।
সাদা চামড়া আর উঁচু বুক যার, দুনিয়া তো তার ই।
উঁচু বুকে, কামুক চোখে খদ্দের খোঁজে,
কিছু টাকার জন্য,
আরো কিছুদিন বেঁচে থাকার জন্য।
সকাল ১১টা ৪০। ২৭-১০-২০১৭। জিগাতলা, ঢাকা
শাহরিয়ার সোহাগ এর 'ঢাকা থেকে বরিশাল' কবিতা টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Dhaka Theke Borishal poem by Shahriar Sohag
শাহরিয়ার সোহাগ এর কাব্যগ্রন্থ আমার শহরে তোমার গল্প
শাহরিয়ার সোহাগ এর কাব্যগ্রন্থ আবিদা


No comments