উলঙ্গ কারাগার || শাহরিয়ার সোহাগ || Ulanga Karagar poem by Shahriar Sohag
উলঙ্গ কারাগার
স্বাধীন হয়েছি সেই একাত্তরে।
পেয়েছি নির্দিষ্ট ভূখন্ড, পেয়েছি প্রাণের বাংলা ভাষা।
তবে আজো পারিনি সেই বাংলাতে নিজের কথাগুলো বলতে।
বিস্তীর্ণ মাঠে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হল।
বলে দেওয়া হল সেই মাঠে আমি কি কি করব।
তাহলে সেই মাঠে বিশুদ্ধ বাতাস নিয়ে লাভ কি?
প্রতিনিয়ত কিছু দৃষ্টি আমাকে তাড়া করছে।
মনে হচ্ছে কে যেন আমাকে দেখছে।
মনে হচ্ছে প্রতিনিয়ত নজরবন্দি অন্যের কাছে।
নিজের কথাগুলো যদি বলতে নাই পারি, কি হবে এই
বাংলা?
নিজের কথা বলব বলেই তো একাত্তর এসেছিল।
স্বাধীনতা? সেটা ক্যালেন্ডার কিংবা ডায়েরীর পাতায়।
আমি স্বাধীনতা পেয়েছি।
খাঁচা থেকে মুক্তি পেয়ে মুক্ত আকাশের নিচে আমি একটা শেকল পায়ে পাখি।
আমি ভীতু? হয়তবা। যদি মরে যাই!
অসংখ্য ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে আমি যদি ঘুম ভেঙে উঠে দাড়াই,
তখন যদি শকুন এসে আমাকে ছোবল মেরে নিয়ে যায়!
আমি উঠব না, শকুনের ভয়ে আমি ঘুমিয়ে থাকব।
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখব।
স্বপ্ন দেখব কেউ একজন শকুনকে বশ করেছে,
আর তখন আমি পরিবর্তনের বাতাসে মুক্ত আকাশে উড়ছি!
প্রতিদিন সকালে এটা ভেবে অবাক হই-
'স্বাধীন দেশে' আমি আরো একটা
দিন বেঁচে আছি।
বাইরে বের হলে মনে হয় কেউ আমাকে দেখছে।
নিজের ছায়া দেখলেও মনে হয় সেটা আমার না, অন্য কারো।
স্বাধীনতা, সেটা একাত্তরের কাছেই বন্দি।
শেকল পায়ে আমি আজ স্বাধীনতার স্বাদ নিচ্ছি।
আমার জন্ম খাঁচার বাইরে ঠিকই, তবে-
এখন দেশ আমার একটা উলঙ্গ কারাগার।
(১৩-৮-১৫। দুপুর ১২ টা ২১। ধানমন্ডি, ঢাকা)
শাহরিয়ার সোহাগ এর উলঙ্গ কারাগার কবিতা টি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Ulanga Karagar poem by Shahriar Sohag
শাহরিয়ার সোহাগ এর কাব্যগ্রন্থ আমার শহরে তোমার গল্প
শাহরিয়ার সোহাগ এর কাব্যগ্রন্থ আবিদা


No comments